নাম :
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বাংলাদেশের আইন অঙ্গন এবং রাজনীতির এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য (MP)। একই সাথে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী, বিএনপি-র আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন এবং আইনি সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
লিঙ্কনস ইন (যুক্তরাজ্য) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর)
সংসদ সদস্য (MP), আইন বিষয়ক সম্পাদক (বিএনপি) এবং মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম
বাংলা এবং ইংরেজি
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবন, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল লন্ডনের বিখ্যাত দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন (Lincoln's Inn) থেকে 'ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল' ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওলভারহ্যাম্পটন থেকে এলএলবি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এটি ছিল তার পেশাগত জীবনের ভিত্তি।
যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। অত্যন্ত অল্প সময়ে তিনি একজন দক্ষ লিটিগেটর হিসেবে পরিচিতি পান এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও ফৌজদারি মামলা পরিচালনায় অংশ নেন।
তার মেধা ও দলের প্রতি আনুগত্যের কারণে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনি প্যানেলের অন্যতম প্রধান সদস্য হিসেবে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
২০১৯ এবং পরবর্তীতে পুনর্গঠিত কমিটিতে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব নির্বাচিত হন। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং আইনি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া হাজার হাজার রাজনৈতিক মামলার আইনি লড়াইয়ে তিনি সম্মুখসারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন এবং তারেক রহমানের মিথ্যা মামলাগুলো রাজনৈতিকভাবে এবং আইনিভাবে মোকাবেলায় তিনি সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নেত্রকোণা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসন থেকে বিএনপি-র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি ১,৫৮,৩৪৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী গোলাম রব্বানী পেয়েছেন ৮৭,৪৮৮ ভোট। এই জয় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি সংগ্রামের এক বিশাল স্বীকৃতি। নির্বাচনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একে 'জনতার মতামতের প্রতিফলন' হিসেবে অভিহিত করেন। এই মাইলফলক জয়ের মাধ্যমে তিনি এখন সরাসরি জাতীয় সংসদে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরবাসীর প্রতিনিধিত্ব করছেন।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-১ আসন থেকে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর, ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি ক্যারিয়ারের এক অনন্য অর্জন, যার মাধ্যমে তিনি দেশসেবার আরও বড় সুযোগ পেয়েছেন। পদবী: ভূমি প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়: ভূমি মন্ত্রণালয় শপথের তারিখ: ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ প্রাপ্ত ভোট: ১,৫৮,৩৪৩ (নেত্রকোণা-১ আসন)